আগস্টের শেষ সপ্তাহেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য, আসছে স্বচ্ছ নতুন নিয়োগ ব্যবস্থা
বাংলাদেশ থেকে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহের মধ্যে আবারও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ কাঠামো চালুর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা জানান, প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর, উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মালয়েশিয়ার কাছে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছে। তবে কোন কোন এজেন্সি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব যাচাই-বাছাই শেষে।
মাহ্দী আমিন স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, সিন্ডিকেট বা অতীতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিয়োগ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সরকার নয়। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে সাধারণ কর্মীরা কম খরচে এবং হয়রানিমুক্তভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, হাইকমিশন ও কারিগরি কর্মকর্তারা প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবেন। এরপর অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগ পদ্ধতি ও নতুন কার্যক্রম সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের অবদান মালয়েশিয়ার শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন শুধু শ্রমবাজারেই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া কয়েক হাজার বাংলাদেশি অনিয়মিত অবস্থায় সেখানে বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হয়। উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ, কৃষি, পাম অয়েল বাগান, সেবা ও পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য নতুন কর্মী নিয়োগ কার্যত স্থগিত করে। এরপর থেকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়। সর্বশেষ গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর আলোচনায় নতুন গতি আসে।
মতামত দিন