চীনের বৈশ্বিক এআই জোটে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
চীনের নেতৃত্বে গঠিত ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (WAICO)-এ প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক (Observer) হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এ সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ও উন্মুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও মানবকল্যাণমুখী এআই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বৈশ্বিক নীতিমালা প্রণয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া।
চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাইয়ে সদরদপ্তর স্থাপন করে গত ১৬ জুলাই আন্তঃসরকারি এই সংস্থার যাত্রা শুরু হয়। বিশ্ব এআই সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ২৯টি দেশকে নিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগালসহ ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর বিভিন্ন দেশ।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন কোনো একটি দেশের একক নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। বরং এ প্রযুক্তির বিকাশে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে সম্প্রতি ঢাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রযুক্তি নীতি এবং চীনা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। জবাবে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বে নতুন ধরনের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে এবং প্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন শক্তির মধ্যে পৃথক জোট গড়ে উঠছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি এখনো দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্র। এর ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে বিশ্ব পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে মানবসভ্যতার আগামী পথচলায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নবগঠিত ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রও পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বৈশ্বিক এআই সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় দেশের অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মতামত দিন