*নিত্যপণ্যের বাজারে ফের আগুন, বাড়ছে ক্রেতার নাভিশ্বাস**।
*উপশিরোনাম:* আটা-ময়দা-ডিম-মাছ-মুরগির দামে ঊর্ধ্বগতি; ছয় মাসে ডজন ডিম বেড়েছে ৪৫–৫০ টাকা, কর কমানোর সুফল মিলছে না খুচরা বাজারে।
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ ।
২৬.০৯.২০২৬
নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরার বদলে নতুন করে বাড়ছে চাপ। আটা-ময়দা, ডিম, মাছ ও মুরগির পাশাপাশি কয়েক ধরনের সবজির দামও বেড়েছে। ছয় মাসের ব্যবধানে ডজন ডিমের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। এক মাসে আটার কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা, আর ময়দায় বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। ফলে আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়েই চলেছে সাধারণ মানুষের।
শুক্রবার রাজধানীর সাভার বাজার,হেমায়েতপুর বাজার,কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জের বউবাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সাভার বাজারে খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এক মাস আগেও এর দাম ছিল ৪৫ টাকা। ময়দার কেজি এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, যেখানে এক মাস আগে দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দার দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। এক মাস আগে একই প্যাকেটের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে, পাইকারি বাজারেও ময়দার দাম বেড়েছে। ৫০ কেজির বস্তা এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকায়। আগে এর দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে ময়দার ওপর নির্ভরশীল বেকারি শিল্পেও তৈরি হয়েছে বাড়তি খরচের চাপ।
ময়দার দাম বাড়ার প্রভাবে বনরুটি, কেক ও বিস্কুটের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার আপাতত সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত স্থগিত হলেও বাজারে সব পণ্য আগের দামে মিলছে না।
*সবজিতেও ঊর্ধ্বগতি*
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। ছুটির দিনের বাড়তি চাহিদা এবং বৃষ্টির কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৭০ থেকে ৮০, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১১০ থেকে ১৪০, করলা ৮০ থেকে ১০০, শিম ১৮০ থেকে ২০০ এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রহিমা বেগম বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজি সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তবে নতুন সবজি বাজারে এলে কয়েক দিনের মধ্যে দাম কমে আসতে পারে।
*ডিমে ছয় মাসে বাড়তি ৫০ টাকা*
নিত্যপণ্যের মধ্যে ডিমের বাজারে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। ছয় মাস আগে এই দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।
মুরগির বাজারও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির নয়। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। দেড় মাস আগে এর দাম ছিল প্রায় ২০ টাকা কম। সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ এবং হাইব্রিড মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় মোটামুটি স্থির রয়েছে।
*মাছের বাজারেও বাড়তি খরচ*
মাছ কিনতেও আগের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বাজারে রুই ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০, টেংরা প্রায় ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং দেশি কৈ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এর মধ্যে কিছুটা ব্যতিক্রম ইলিশ। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় এর দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। আকারভেদে রাজধানীর বাজারে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার বেশি দামে।
*কর কমানোর পরও স্বস্তি নেই*
*নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ কমাতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে চাল, আটা, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ ৬৩টি পণ্যে কর কমানো হয়েছে। কিন্তু এর সুফল খুচরা বাজারে কতটা পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।*
ভোক্তাদের অভিযোগ, কর-শুল্ক কমানোর পরও বাজারে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। বরং কয়েকটি পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার পরিচালনার চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি নাজের হোসাইন বলেন, কর কমানোর পরও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম কমেনি। বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একদিকে কিছু পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি ও মৌসুমি চাহিদা দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পাইকারি পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপও পৌঁছে যাচ্ছে খুচরা বাজারে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে দাম কমার অপেক্ষায় থাকা ভোক্তাদের স্বস্তি এখনো অধরাই।
মতামত দিন