বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ঢাকায় গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ১৫ দিন পর রাকিব হাসান জয় (১৮)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নীলফামারীতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।
নিহত রাকিব হাসান জয় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগরের সন্তান। তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় গিয়ে ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় যাওয়ার পর হঠাৎ জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরই মধ্যে জয়ের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধের পরও জয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও অনুসন্ধানের একপর্যায়ে নীলফামারীতে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় জয়ের মরদেহের সন্ধান মেলে।
মরদেহ উদ্ধারের খবর গোপালপুরে পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে গভীর শোক। প্রিয় জয়ের এমন নির্মম পরিণতির খবরে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
জয়ের পরিবার বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় যাওয়া তরুণটির জীবন এভাবে থেমে যাবে—এটি তারা কখনো কল্পনাও করেননি। মুক্তিপণ দাবি, অর্থ পরিশোধের পরও তাকে জীবিত না পাওয়াসহ পুরো ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়রা।
এদিকে, ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে জয়কে হত্যা করা হয়েছে, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মতামত দিন