*দেশে ফিরল তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ, শেষ বিদায় আজ।*
*উপশিরোনাম:* বনানীতে জানাজা, মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন; অনলাইন সাংবাদিকতার এই পথিকৃৎকে স্মরণ করছেন সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সাংবাদিক ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে।
বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে মরদেহ বাসায় নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে রাখা হবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সেখানে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন বন্ধু, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। বিকেল ৩টায় একই স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিকেল ৫টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থানকালে গত ১ অক্টোবর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। পরে তাকে সেন্ট বার্থোলোমিউস হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। পরদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে জোহরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার সাবেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
*অনলাইন সাংবাদিকতায় পথচলা*
বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তার নেতৃত্বে ২০০৬ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর ২৪ ঘণ্টার সংবাদসেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশের সংবাদ পরিবেশনায় নতুন ধারার সূচনা হয়।
১৯৮৯ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি সানডে এক্সপ্রেসে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে ডেইলি স্টার ও দ্য ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৫ সালের জুন পর্যন্ত তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন।
সাংবাদিকতায় সততা, নির্ভীকতা ও স্বাধীনতার আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। লন্ডনে জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যে তার ছেলে রাদ শারার খালিদী বাবার সাংবাদিকতাকে শুধু পেশা নয়, দায়িত্ববোধ ও গভীর অনুরাগের জায়গা হিসেবেও তুলে ধরেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিকাশে তার অবদান সহকর্মী ও সংবাদমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে।
মতামত দিন