• ২০২৬ অক্টোবর ২৭, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী: দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্তের আভাস,

  • প্রকাশিত ০১:১০ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী: দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্তের আভাস,
Time Bangla news
মোঃ মিজানুর রহমান | কুমিল্লা বুরো চিফ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ


জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী: দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩  পিএম

জাপানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপানের উদ্দেশে চার দিনের সরকারি সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকা ত্যাগ করেন। ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাপানের নারিতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাপান বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার চতুর্থ বিদেশ সফর। চার দিনের এই সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মূলত এশিয়ার দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। সফর শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চতুর্থ বিদেশ সফর। এর আগে ২২ থেকে ২৬ জুন তিনি প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যান। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর করেন।

জানা গেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যাত্রা প্রধানমন্ত্রীর। এবার তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী মূলত কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বার্তা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর। তার এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, মেগা প্রকল্প ও অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির মতো বহুমাত্রিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জাপানের টোকিওর চিবা অঞ্চলে এলএনজি টার্মিনাল এবং পাওয়ার প্লান্ট, ইউনিক্লো কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং নাগোয়াতে গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করবেন। এ-সংক্রান্ত সফরসূচি প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মিডিয়া টিম এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি।

জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর যত ব্যস্ততা

পররাষ্ট্র সচিব ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রসারের লক্ষ্যে আগামীকাল ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান। অন্যান্য সম্ভাব্য বৈঠক ও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (জেবিসিসিইসি) চেয়ারম্যান, জাইকার প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সভাপতি, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক, জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য প্রদান ও জাপানের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের ফুৎসু সিটি, চিবাতে এলএনজি টার্মিনাল এবং পাওয়ার প্লান্ট, ইউনিক্লো কোম্পানির হেডকোয়ার্টার এবং নাগোয়াতে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করবেন বলে সফরসূচি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে জাপানের কোম্পানির কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সূচি প্রস্তুত রয়েছে।

সম্ভাব্য চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় অ্যাজেন্ডা

সরকার ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে দুদেশের মধ্যে অন্তত ৪টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রসার তথা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অগ্রাধিকার।খাতভিত্তিক সমঝোতা তথা কৃষি, মৎস্য খাত, কর্মসংস্থান, জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে সহযোগিতার স্মারক ঘোষণা হতে পারে। মেগা প্রকল্প ও তহবিল তথা মেগা প্রকল্পসমূহের সুদের হার পর্যালোচনা ও সহজীকরণের বিষয় আলোচনায় থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সংকট সমাধান বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহায়তার বিষয়ে যৌথ আলোকপাত করা হবে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক দীর্ঘদিনের

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহু পুরনো। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশের বড় মেগা প্রকল্প- যেমন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল, মহেশখালী-মাতাবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও শক্তি হাব, এবং ঢাকার মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানের ‘জাইকা’র অবদান প্রত্যক্ষ।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন অংশীদারত্ব অতিক্রম করে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) উন্নত দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সক্ষমতায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য রফতানি সুবিধা ধরে রাখা ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই চারদিনের জাপান সফর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং মুক্ত বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ