• ২০২৬ অক্টোবর ২৭, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু

  • প্রকাশিত ০১:১০ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু
Time Bangla news
মোঃ মিজানুর রহমান | কুমিল্লা ব্যুরো চিফ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ


কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু


উত্তরা থেকে কমলাপুর মেট্রোরেলের নাম এমআরটি লাইন–৬। এই প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিল–কমলাপুর অংশের অবকাঠামো নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। আগামী জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তি আছে। তবে তিন মাস আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এত দিন কমলাপুর রেলস্টেশন দিয়ে শুধু দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল চালু হলে বাড়তি যাত্রী পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপ কমবে।সামছুল হক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ

যেভাবে ঢাকায় মেট্রোরেল এসেছে

ঢাকার যানজট কমাতে তৎকালীন মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১২ সালে। নির্মাণে ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর প্রায় ৫৯ শতাংশ জাইকার ঋণ। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হয়। পরের বছরের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হয়।

২০২৫ সালের জুনে মতিঝিল–কমলাপুর অংশ চালুর সিদ্ধান্ত ছিল। ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের এই সম্প্রসারিত অংশে উড়ালসড়ক ও কমলাপুর স্টেশন নির্মাণকাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৩ সালে। মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের ভৌত কাজ করছে থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতাল–থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি।

মেট্রোরেলের নিচের সড়কে নির্মাণ কাজ চলায় যানজট সংকুচিত রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। গত ২১ অক্টোবর কমলাপুর মেট্রোস্টেশন সংলগ্ন সড়কে

অন্যদিকে ইলেকট্রো–মেকানিক্যাল কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিতে দেরি হয়। কারণ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঠিকাদার এই কাজের জন্য ৬৫১ কোটি টাকা দর প্রস্তাব করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসে ব্যয় কমানোর জন্য ঠিকাদারকে চাপ দেয়। এরপর দর–কষাকষি করে ব্যয় ১৮৬ কোটি টাকা কমানো হয় এবং ৪৬৫ কোটি টাকায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড ট্যুবরোকে এই কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তারাই বর্তমানে এ কাজ করছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন কমলাপুর রেলস্টেশন দিয়ে শুধু দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল চালু হলে বাড়তি যাত্রী পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপ কমবে। ইতিমধ্যে মেট্রোরেলে বিনিয়োগ হয়ে গেছে, তা দ্রুত তুলে আনতে হলে যাত্রী চাহিদার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

লাইন বসানোর কাজ এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ তা শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ। আর বিদ্যুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৪০ শতাংশের মতো।

যেসব কাজ বাকি

গত সপ্তাহে সরেজমিনে মতিঝিল–কমলাপুর মেট্রোস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনের অংশে মেট্রোরেলের অস্থায়ী সিঁড়ি দিয়ে শ্রমিকেরা ওঠানামা করছেন। শ্রমিকেরা জানান, ইতিমধ্যে মেট্রোরেলের উড়ালসড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে রেললাইন বসানোর কাজ চলছে। মেট্রোরেল পুরোপুরি বিদ্যুতে চলে। দুই পাশে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে। এর ওপর তার টানা হবে। ট্রেনের সঙ্গে তারের সংযোগের মাধ্যমে মেট্রোরেল চলাচল করে।

কমলাপুর মেট্রোস্টেশনের নিচে বালু ও পাথর স্তূপ করে রাখা রয়েছে। শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত মনির হোসেন জানান, স্টেশনের কাজ চলার কারণে নিচের সড়ক বেহাল হয়ে আছে। তাই সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে।

নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেট্রোরেলের লাইন বসানোর কাজ এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ তা শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ। আর বিদ্যুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৪০ শতাংশের মতো। এ ছাড়া কমলাপুর মেট্রোস্টেশনে লিফট বসানো, সংকেতব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতি বসানো, টাইলস লাগানো, শৌচাগার প্রস্তুত করা, পানির পাম্প বসানোসহ আরও কিছু কাজ বাকি আছে।

নির্মাণাধীন কমলাপুর মেট্রোস্টেশনের নিচের সড়কে পাথর ও বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী স্তুপ করে রাখা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকৌশলী প্রথম আলোকে বলেন, কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায় থেকে জুন–জুলাইয়ে মেট্রোরেল চালুর নির্দেশনা আছে। তবে আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি রেখেই জুলাইয়ে মেট্রো চলাচল শুরু করতে পারে। এতে সমস্যা হবে না।

উত্তরা থেকে কমলাপুর মেট্রোরেলের নাম এমআরটি লাইন–৬। এই প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিল–কমলাপুর অংশের অবকাঠামো নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। আগামী জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তি আছে। তবে তিন মাস আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এত দিন কমলাপুর রেলস্টেশন দিয়ে শুধু দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল চালু হলে বাড়তি যাত্রী পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপ কমবে।

সামছুল হক, পরিবহন বিশেষজ্ঞ

যেভাবে ঢাকায় মেট্রোরেল এসেছে

ঢাকার যানজট কমাতে তৎকালীন মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১২ সালে। নির্মাণে ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর প্রায় ৫৯ শতাংশ জাইকার ঋণ। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হয়। পরের বছরের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা হয়।

২০২৫ সালের জুনে মতিঝিল–কমলাপুর অংশ চালুর সিদ্ধান্ত ছিল। ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দূরত্বের এই সম্প্রসারিত অংশে উড়ালসড়ক ও কমলাপুর স্টেশন নির্মাণকাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৩ সালে। মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের ভৌত কাজ করছে থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতাল–থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি।

মেট্রোরেলের নিচের সড়কে নির্মাণ কাজ চলায় যানজট সংকুচিত রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। গত ২১ অক্টোবর কমলাপুর মেট্রোস্টেশন সংলগ্ন সড়কে

অন্যদিকে ইলেকট্রো–মেকানিক্যাল কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিতে দেরি হয়। কারণ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঠিকাদার এই কাজের জন্য ৬৫১ কোটি টাকা দর প্রস্তাব করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসে ব্যয় কমানোর জন্য ঠিকাদারকে চাপ দেয়। এরপর দর–কষাকষি করে ব্যয় ১৮৬ কোটি টাকা কমানো হয় এবং ৪৬৫ কোটি টাকায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড ট্যুবরোকে এই কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তারাই বর্তমানে এ কাজ করছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)

পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন কমলাপুর রেলস্টেশন দিয়ে শুধু দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ট্রেন চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল চালু হলে বাড়তি যাত্রী পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপ কমবে। ইতিমধ্যে মেট্রোরেলে বিনিয়োগ হয়ে গেছে, তা দ্রুত তুলে আনতে হলে যাত্রী চাহিদার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

সর্বশেষ