বগুড়ায় ৯ দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
সাব-শিরোনাম
প্রতিটি আসনে নতুন সমীকরণ, বাড়ছে ভোটের উত্তাপ
বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি, অন্য দলগুলোর উপস্থিতিতে বদলাচ্ছে হিসাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া এখন আলোচনার কেন্দ্র
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বগুড়ায় জমে উঠেছে নির্বাচনী উত্তাপ।বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফোরাম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, এলডিপি এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ মোট ৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী।ভোটের মাঠে প্রধানত বিএনপি–জামায়াত মুখোমুখি হলেও অন্য দলগুলোর উপস্থিতি সমীকরণ বদলে দিচ্ছে—বলছেন স্থানীয় ভোটাররা।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি–সোনাতলা)
এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সাংসদ কাজী রফিকুল ইসলাম মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই টানা গণসংযোগ চালাচ্ছেন।তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৩ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল।পরে ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি জয়ী হয়।২০০৮ সাল থেকে পার্বতী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রয়াত আবদুল মান্নান বিজয়ী হন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ)
বর্জাতমানে জামায়াতে ইসলামী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর শাহাদাতুজ্জামান,বিএনপির মীর শাহে আলম এবং ইসলামী আন্দলনের জামাল উদ্দিন।
১৯৯১ সালে এ আসনে জামায়াতের শাহাদাতুজ্জামান বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।এ আসনে ১৯৭৯ সালে বিএনপি, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র,
১৯৯৬–২০০১ সালে বিএনপি, ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া–আদমদীঘি):
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এবার ভোটের মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস।বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার, জাতীয় পার্টির শাহিনুর ইসলাম, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুল ইসলাম
ও জামায়াতে ইসলামী থেকে নূর মোহাম্মদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তারুণ্যের আইডল হিসেবে পরিচিত নূর মোহাম্মদের প্রচারণা ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে—এমন মন্তব্য ভোটারদের।আগে ১৯৭৯ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৮৬ সালে জাসদ, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি
এবং ১৯৯১–২০০১ পর্যন্ত বিএনপি জয়ী হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগ এখানে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে।
বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম)
এ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন,
জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল, এলডিপির কামরুল হাসান শাহেদ ফেরদৌস,
ইসলামী আন্দোলনের মুহা. ইদ্রিস আলী এবং জামায়াতের ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় বিএনপি জয়ী হলেও ২০০৮–এর পর জাতীয় পার্টি আসনটি দখলে রাখে।
বগুড়া-৫ (শেরপুর–ধুনট)
এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের লড়াই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জামায়াতের দবিবুর রহমান,এছাড়া সিপিবির শিপন কুমার রবিদাস এবং ইসলামী আন্দোলনের মীর মাহমুদুর রহমান নির্বাচন করছেন।এই আসনে আগে বিএনপি ২ বার, আওয়ামী লীগ ৩ বার এবং জাতীয় পার্টি ১ বার জয় পেয়েছে।
বগুড়া-৬ (সদর):
বগুড়ার সবচেয়ে আলোচিত আসন এটি।
এখান থেকে নির্বাচন করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।তার বিপরীতে জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল আগেই প্রচারণা শুরু করেছেন।এই আসন দীর্ঘদিন বিএনপির দখলে থাকলেও একবার করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।
বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর–গাবতলি)
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন গাবতলি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন।জামায়াতে ইসলামী থেকে লড়ছেন গোলাম রব্বানী।এ ছাড়া মুসলিম লীগের আনছার আলী এবং ইসলামী আন্দোলনের শফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপির আধিপত্য থাকলেও
এ আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও একবার করে জয় পেয়েছেন।
বগুড়ার সাতটি আসনে এবার ভোটের হিসাব অনেকটাই জটিল।বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত উপস্থিতির পাশাপাশি অন্যান্য দলগুলোর প্রার্থীও ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটাররা।
মতামত দিন