টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে গৃহবধূ বুশরা তালুকদারের রহস্যজনক মৃত্যু, নতুন তথ্য ঘিরে চাঞ্চল্য।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় বুশরা তালুকদার নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ মার্চ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবার দাবি করছে, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে স্বামী বাপ্পী তালুকদার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন। এদিকে সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
ফুটেজে দেখা যায়, বুশরার গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা ছিল। তবে তার পা মাটিতে স্পর্শ করছিল, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার বাসিন্দা বুশরা তালুকদার চার বছর আগে পরিবারের অমতে তার চাচাতো ভাই বাপ্পী তালুকদারকে বিয়ে করেন। একপর্যায়ে তাদের বিচ্ছেদ হলেও পরবর্তীতে আবার একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। গত ছয় মাস ধরে তারা ধনবাড়ীর হাজরাবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
নিহতের বাবা রতন তালুকদার জানান, তার মেয়ে টাঙ্গাইলের করটিয়া সা’দাত কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। রিপোর্ট হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি জামাই বাপ্পী তালুকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন।
ঘটনার পর থেকেই স্বামী বাপ্পী তালুকদারের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার পরিবারের বক্তব্যেও অসংগতি থাকায় সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে।
মতামত দিন