" *বর্জ্যের ভাগাড় সরিয়ে সবুজের চাদর আমিনবাজারে**
বর্জ্যের দুর্গন্ধের জায়গায় এখন নিম-মাধবীলতা, পরিচর্যায় নিয়োজিত কর্মী
একসময় যেখানে নাকে রুমাল চেপে পথ চলতে হতো, সেই আমিনবাজারের সড়কপাশে এখন চোখে পড়ছে সবুজের সারি। দীর্ঘদিনের বর্জ্যের স্তূপ সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়েছে। এরপর বালু ও মাটি ফেলে তৈরি করা হয়েছে গাছ লাগানোর উপযোগী পরিবেশ। লাগানো হয়েছে নিম, মাধবীলতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। গাছ রক্ষায় দেওয়া হয়েছে বেড়াও।
আমিনবাজার ব্রিজ পার হওয়ার পর মধুমতি সিটি থেকে বলিয়াপুর পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশজুড়ে বদলে গেছে দৃশ্যপট। যেখানে ছিল বর্জ্যের ভাগাড়, সেখানে এখন ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে সবুজ বেষ্টনী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু লোক দেখানোভাবে বর্জ্যের ওপর বালু ফেলে জায়গাটি ঢেকে দেওয়ার পরিবর্তে এবার পুরোনো বর্জ্য সরিয়ে স্থায়ীভাবে জায়গাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে মাটি ফেলে গাছ লাগানো হয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আগে প্রধানমন্ত্রী এ পথে গেলে বর্জ্যের স্তূপের ওপর বালু ফেলে সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ ও নোংরা দৃশ্য আড়াল করা হতো। এবার পুরো বর্জ্য সরিয়ে জায়গাটি প্রস্তুত করে গাছ লাগানো হয়েছে। ফলে আগের সেই অসহনীয় পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে।
শুধু গাছ লাগিয়েই থেমে নেই কর্তৃপক্ষ। গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার জন্য কর্মী রাখা হয়েছে। কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি অফিসও। নতুন লাগানো গাছ যাতে গবাদিপশু বা অন্য কোনো কারণে নষ্ট না হয়, সেজন্য দেওয়া হয়েছে সুরক্ষাবেষ্টনী।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর এ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যেই দ্রুতগতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বছরের পর বছর বর্জ্যের কারণে আমিনবাজার এলাকার এই অংশটি ছিল দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতীক। এখন সেই জায়গাতেই গাছের চারা, মাটি ও সবুজের সমারোহ নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
*‘"ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা"* স্লোগানে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার ঘোষণার পর ঢাকার প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকাতেও এমন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমিনবাজারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কতটা টেকসই হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
*বর্জ্যের ভাগাড় থেকে সবুজের ঠিকানা—আমিনবাজারের এই পরিবর্তন তাই শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের নয়, দীর্ঘদিনের দূষণ ও দুর্গন্ধ থেকে মুক্তিরও নতুন বার্তা দিচ্ছে।*
মতামত দিন