১৯৯২ সালে মাত্র ৪০ মাইল বেগে চলা কয়লা-ধোঁয়া ছড়ানো বাষ্পীয় ইঞ্জিন দিয়ে চীনের ট্রেন চালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন হান চুনজিয়া। অথচ দুই দশক ঘুরতে না ঘুরতেই তিনি ছুটছেন বিস্ময়কর ২১৭ মাইল গতির বুলেট ট্রেনে।
তাঁর এই পেশাগত জীবন যেন কেবল একটি চাকরি নয়, বরং চীনের অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য রেলওয়ে বিপ্লবেরই এক জীবন্ত ইতিহাস।
শুরুর দিনগুলোর লড়াই ছিল বড্ড কঠিন। নিরাপত্তার লেশমাত্র না থাকা সেই বাষ্পীয় ইঞ্জিনগুলোতে সবকিছু সামলাতে হতো চালকদের নিজ হাতে। গরমে ইঞ্জিনের কেবিন হয়ে উঠত নরককুণ্ড, আর শীতে জানালার কাচে বরফ জমে দৃষ্টি ঢেকে দিলে উপায় ছিল না—ট্র্যাক দেখতে চালকদের ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকে পড়তে হতো ট্রেনের বাইরে।
যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে হানের বাহনও বদলেছে। ১৯৯৬ সালে ডিজেল ইঞ্জিন, ২০১০ সালে বৈদ্যুতিক ট্রেন এবং অবশেষে ২০১৭ সালে তিনি চালকের আসনে বসেন বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম ফুক্সিং বুলেট ট্রেনের।
রেল প্রযুক্তির প্রতিটি নতুন প্রজন্মের সাক্ষী হয়ে একে একে তিনি অর্জন করেন আটটি ভিন্ন অপারেটিং লাইসেন্স।
তবে এই সাফল্যের মুকুট পরতে কম মূল্য দিতে হয়নি তাঁকে। মেয়ের প্রথম কথা বলা কিংবা প্রথম স্কুলেই যাওয়ার মতো সোনালী শৈশবগুলো তিনি দেখতে পাননি কেবল পেশার তাগিদে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় যে ট্রেনগুলোর গতি তিনি বাড়িয়েছিলেন, সেই দ্রুতগতির বাহনই তাঁকে পরবর্তীতে পরিবারের সাথে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়।
আজ চীনের বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্ক বিশ্বের সর্ববৃহৎ, যার দৈর্ঘ্য ছাড়িয়ে গেছে ৪০,০০০ কিলোমিটার। হান কেবল এই মহাবিপ্লবের দর্শক মাত্র ছিলেন না—নিজের হাতে সেই পরিবর্তনের চাকা ঘুরিয়েছিলেন তিনি নিজেই।
মতামত দিন