• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২৪
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বিদ্যুৎ বিভাগের লোক নন, তবুও লাইন সংস্কারের নামে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ

  • প্রকাশিত ১১:০৯ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
বিদ্যুৎ বিভাগের লোক নন, তবুও লাইন সংস্কারের নামে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ
Time Bangla news
তাজিদুল ইসলাম সুনামগঞ্জ

বিদ্যুৎ বিভাগের লোক নন, তবুও লাইন সংস্কারের নামে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের পিডিবির অন্তর্ভুক্ত গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের কথা বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোশাররফ হোসেন ও মরহম আলী সুমন নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ভেরাজ গ্রামের বিদ্যুৎ লাইন জরাজীর্ণ হওয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মোশাররফ হোসেন ও মরহম আলী সুমন স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান, তাঁরা তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ লাইনের সংস্কার ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করে দেবেন। এ আশ্বাসে দুই দফায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি ছাতক নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের এপিপি (Annual Procurement Plan)-এর আওতাভুক্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সিলেটের মেসার্স তাজমা এন্টারপ্রাইজ গত বছর বিদ্যুৎ লাইনের কাজ সম্পন্ন করলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়নি। বরং ভুক্তভোগীদের কাছে ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য আরও টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে সুমন আহমদ দাবি করেন, মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে তাঁর কাছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এসেছে। এছাড়া শ্রমিকদের খরচ বাবদ তিনি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এর বাইরে এ বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোশাররফ ও সুমন বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ নন। তাঁদের টাকা দিয়ে থাকলে যারা দিয়েছেন এবং যারা নিয়েছেন, বিষয়টি তাঁরাই জানেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোশাররফ ও সুমন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী না হলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় কীভাবে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, সংস্কার ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের নামে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হলে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং যাতায়াতের তথ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের বিষয়টি বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও ছাতকের বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সমন্বয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি কোনো প্রকল্প বা কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ লাইনের কাজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং শতশত কাজও সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে টাকা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ভেরাজপুর গ্রামে ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা হোক।

সর্বশেষ