রামু ডাকাত সন্দেহে দুইজন,পুলিশের হাতে সোপর্দের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআই হাকিমের বিরুদ্ধে!
কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের দারিয়ার দীঘি কালোর দোকান এলাকায় ডাকাত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
গত রোববার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজনের মধ্যে একজন ঈদগাঁও উপজেলার ৪ নং ওয়ার্ডের চান্দের ঘোনা এলাকার গুরা মিয়ার ছেলে মো. রফিক। অপরজন ঈদগাঁওয়ের খালির ছড়া শিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশের এসআই হাকিম, ইউপি সদস্য নছরুল্লা রাইহান ও গ্রাম পুলিশ মো. ইসলাম একাধিকবার তার নাম-ঠিকানা জানতে চান। তবে তিনি কোনো তথ্য না দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, তাদের সঙ্গে থাকা নবাব মিয়া নামে আরও একজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আবদুল্লাহ জানান, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে আটক মো. রফিক দাবি করেন, তারা চারজন দলবদ্ধ হয়ে কালোর দোকানের পূর্ব পাশে পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার পথে নিজেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে তারা কালোর দোকানের পশ্চিম পাশের একটি ঘরপাড়ায় চলে আসেন।
পুলিশের হাতে সোপর্দের পর কেন ছেড়ে দেওয়া হলো?
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাকাত সন্দেহে জনতা দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পর তাদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ না করেই রাতের আঁধারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, জনগণ যদি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে, তাহলে পুলিশ তাদের পরিচয়, পূর্বের কোনো অপরাধের রেকর্ড বা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই না করে থাকলে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো?
বিশেষ করে তাদের সঙ্গে থাকা একজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার পরও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কী ধরনের যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে ঈদগাঁও ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদুল হক মিনার জানান, পালিয়ে যাওয়া নবাব মিয়া এলাকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ও ‘ডাকাত’ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হোক। পাশাপাশি পুলিশের হাতে সোপর্দ করা ব্যক্তিদের কেন, কী যাচাইয়ের ভিত্তিতে এবং কার নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে, রামু থানার এসআই হাকিমের বক্তব্য নেওয়া হলে তিনি বলেন,তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়াতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন