নোয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার প্রায় ৮০ শতাংশ সড়কই কমবেশি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বড় বড় গর্তে পানি জমে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাউজিং সেন্ট্রাল রোড, আশপাশের লিংক রোড, জেল রোড, হরিনারায়ণপুর রোড, পুলিশ লাইন রোড, আলিপুর রোড ও হাসপাতাল রোডসহ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একই চিত্র। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে, আবার কোথাও বৃষ্টির পানি জমে সড়ক প্রায় অচল হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল রোডে প্রায় ১৫ দিন আগে সংস্কারকাজ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে। এতে সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
হাউজিং এলাকার বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, "নোয়াখালী পৌরসভা যে একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা, এই রাস্তাগুলো দেখলে তা মনে হয় না। অসুস্থ রোগী নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। দ্রুত স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কার করা প্রয়োজন।"
পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, "কিছুদিন আগে দেখেছি মাইজদী বাজারে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন কাজ অনেকটাই স্থগিত রয়েছে। সেখানে এত গর্ত ও কাদা যে রাস্তাটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো যানবাহন চলতে চায় না। ফলে সবাই বিকল্প হিসেবে মাইজদী বাজারের সরু সড়ক ব্যবহার করছে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।"
স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভার কিছু সড়ক এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোর সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পানি জমে কাদাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীবাহী যানবাহনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নগরবাসীর দাবি, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।
মতামত দিন