• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪, শুক্রবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ফুলবাড়ীর ৭২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

  • প্রকাশিত ১০:০৯ অপরাহ্ন শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ফুলবাড়ীর ৭২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
টাইম বাংলা নিউজ
মোয়াজ্জেম হোসেন, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে পদগুলো শূন্য থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ ও পদোন্নতিজনিত জটিলতার কারণে বছরের পর বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না। আইনি জটিলতা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ১৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগ এবং ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু পদোন্নতি বন্ধ থাকার পাশাপাশি সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও দীর্ঘসূত্রতা থাকায় শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিন দিন সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক নানা কাজ। এতে শিক্ষকরা বাড়তি চাপের মধ্যে পড়ছেন এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় অনেক শিক্ষক কর্মস্পৃহা হারাচ্ছেন। দ্রুত পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম চালু করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

শুধু প্রধান শিক্ষক সংকটই নয়, ফুলবাড়ীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নাজুক। উপজেলার ১০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতেই নৈশপ্রহরি কাম দপ্তরি নেই। ফলে রাতের বেলায় এসব বিদ্যালয় কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় থাকে।

নিরাপত্তার অভাবে ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম ও বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব সরঞ্জাম চুরি যাওয়ায় বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে জনবল সংকট। তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন দুজন। ফলে উপজেলার বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয় নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি আইনি জটিলতা নিরসন করে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি কার্যক্রম চালু, বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরি কাম দপ্তরি নিয়োগ এবং শিক্ষা অফিসের জনবল সংকট দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে ফুলবাড়ীর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সর্বশেষ