• ২০২৬ অক্টোবর ০৭, বুধবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*গর্ভেই শিশুর টিউমারের চিকিৎসা, মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনে মিলল সাফল্য।*

  • প্রকাশিত ০৫:১০ অপরাহ্ন বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
*গর্ভেই শিশুর টিউমারের চিকিৎসা, মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনে মিলল সাফল্য।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*গর্ভেই শিশুর টিউমারের চিকিৎসা, মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশনে মিলল সাফল্য।* 

মায়ের গর্ভে তখন ২২ সপ্তাহের ভ্রূণ। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, শিশুটির বুকের ভেতর দ্রুত বড় হয়ে উঠছে একটি টিউমার। এর চাপে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে শিশুটির পেটে জমতে শুরু করে অতিরিক্ত তরল।

জটিল এই পরিস্থিতিতে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই শিশুটির অস্ত্রোপচার করে নজির সৃষ্টি করেছেন চীন ও হংকংয়ের একদল চিকিৎসক। গর্ভস্থ শিশুর টিউমারে সফলভাবে মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন করে তাঁরা সম্ভাব্য প্রাণঘাতী জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন।

শেনজেনের বাওয়ান ওমেনস অ্যান্ড চিলড্রেনস হসপিটাল এবং চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের চিকিৎসকদের যৌথ দল এ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন গত ২০ আগস্ট Ultrasound in Obstetrics & Gynecology জার্নালে প্রকাশিত হয়।


চিকিৎসাধীন ওই নারীর বয়স ছিল ৪০ বছর। গর্ভের শিশুটির শরীরে শনাক্ত হয় মাইক্রোসিস্টিক কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন বা সিপিএএম—ফুসফুসের একটি বিরল জন্মগত ত্রুটি। এতে স্বাভাবিক ফুসফুসের টিস্যুর জায়গায় অসংখ্য ক্ষুদ্র সিস্ট তৈরি হতে পারে। দ্রুত বড় হলে তা ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।


পরীক্ষায় দেখা যায়, শিশুটির বুকের ডান অংশের বড় একটি জায়গা প্রায় ৫ সেন্টিমিটার আকারের অস্বাভাবিক টিস্যু দখল করে আছে। এর প্রভাবে শিশুটির পেটে বিপজ্জনক মাত্রায় তরল জমে অ্যাসাইটিসও দেখা দেয়।


চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের সমস্যায় সাধারণত বড় সিস্টের তরল বের করে দেওয়া অথবা টিউমারে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান নালী বন্ধ করার পদ্ধতি বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে অসংখ্য ক্ষুদ্র সিস্ট থাকায় এবং টিউমারের কেন্দ্রে বড় কোনো রক্তনালী না থাকায় প্রচলিত পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কম।


তাই চিকিৎসকরা নতুন কৌশলের আশ্রয় নেন। রিয়েল-টাইম উচ্চক্ষমতার আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করে প্রথমে টিউমারে পৌঁছানোর নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা হয়। এরপর মায়ের পেট ও জরায়ুর দেয়াল পেরিয়ে ভ্রূণের বুকের দেয়ালে সূক্ষ্ম একটি অ্যাবলেশন নিডল প্রবেশ করানো হয়।


নিডলটি টিউমারের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছানোর পর মাইক্রোওয়েভ শক্তি প্রয়োগ করা হয়। এতে টিউমারের টিস্যু দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ধ্বংস হতে থাকে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র দুই মিনিট। একই সময়ে আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে তাপের বিস্তার ও আশপাশের অঙ্গগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।


অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই চিকিৎসার ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। টিউমারের আকার দ্রুত কমে আসে এবং শিশুটির শরীরে নতুন করে তরল জমাও বন্ধ হয়ে যায়।


এরপর গর্ভধারণ স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। ৩৭ সপ্তাহে ওই নারী একটি শিশুর জন্ম দেন। নবজাতকের ওজন ছিল ২ দশমিক ৯ কেজি। জন্মের পর অ্যাপগার স্কেলে শিশুটির স্কোর ছিল পূর্ণ ১০।


চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জন্মের চার মাস পরও শিশুটির টিউমার পুনরায় বড় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।


 *বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভস্থ শিশুর গুরুতর জন্মগত জটিলতার চিকিৎসায় এ ধরনের সফলতা ভবিষ্যতে ভ্রূণের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। মায়ের গর্ভেই অত্যন্ত সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর জীবন রক্ষার এই ঘটনা আধুনিক ফিটাল মেডিসিনের সক্ষমতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।*

সর্বশেষ