*চাল-আটা-ময়দায় দামের বাড়তি চাপ, চড়া আদা-রসুনও।বাজারে স্বস্তি উধাও।*
*উপশিরোনাম:* চাল-আটা-ময়দা, আদা-রসুনের পর মাছ-মাংসেও বাড়তি খরচে; বিপাকে সীমিত আয়ের মানুষ।
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চাল, আটা-ময়দা, আদা-রসুন ও লেবুর দাম বাড়ায় নতুন করে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। একই সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ-মাংসও। কিছু সবজি ও ডিমের দাম সামান্য কমলেও তাতে বাজারের সামগ্রিক ব্যয়ের চাপ খুব একটা কমেনি। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শুক্রবার ঢাকার সাভার,মিরপুর,শ্যামলী, ও কারওয়ান বাজার এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর নজরদারির ঘাটতির সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। তবে দাম বাড়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সরবরাহ, আমদানি ও বাজারব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রয়োজন।
*আদা-রসুন-লেবুতেও বাড়তি খরচ*
রান্নার অপরিহার্য উপকরণ আদা-রসুনের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন ক্রেতারা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চীনা আদার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।
চীনা রসুনের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশি রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। এদিকে জাতভেদে চারটি লেবুর দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় উঠেছে।
*শীতের আগাম সবজি বাজারে, তবু দাম নাগালের বাইরে*
বাজারে শীতের আগাম সবজি আসতে শুরু করলেও সরবরাহ সীমিত থাকায় অধিকাংশ সবজি কিনতে ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। প্রতি কেজি পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। ঝিঙার দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কচুমুখির দাম ৭০ টাকা। কাঁকরোল ও বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে।
তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শিমের দামও কিছুটা নেমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি শিমের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠলেও বর্তমানে তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে ফুলকপির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
অন্যদিকে, টমেটোর দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। প্রতি কেজি টমেটো কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা।
*পোলাওর চালের কেজি ২৩০ টাকা*
চালের বাজারেও স্বস্তি নেই। আগে প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হওয়া পোলাওর চালের দাম মানভেদে বেড়ে ১৯০ থেকে ২৩০ টাকায় পৌঁছেছে। নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। তুলনামূলক মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে।
এদিকে আটা-ময়দার দামও বাড়তির দিকে। বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে খোলা ময়দার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম ৬ শতাংশ।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডাল ও বিভিন্ন মসলার দামও এখনো তুলনামূলক বেশি।
*ডিমে কিছুটা স্বস্তি, মুরগি-মাছ-মাংসে নেই*
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগে খামারের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।
তবে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম এখনো চড়া। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায়। জাতভেদে সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকা। গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।
মাছের বাজারেও উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত রয়েছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাশ মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং মাঝারি ও বড় আকারের তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের রুই মাছের দাম আকার ভেদে কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায়।
*আয় বাড়ছে না, বাড়ছে সংসারের ব্যয়*
বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও চাল, আটা-ময়দা, রান্নার উপকরণ, মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের কেনাকাটায় হিসাব কষতে হচ্ছে।
ক্রেতাদের মতে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মতামত দিন