• ২০২৬ অক্টোবর ২৪, শনিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

মোদির বাসভবনের পাশে বুলডোজার, হুমকিতে শতবর্ষী মসজিদ-মন্দির।*

  • প্রকাশিত ০৮:১০ অপরাহ্ন শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
মোদির বাসভবনের পাশে বুলডোজার, হুমকিতে শতবর্ষী মসজিদ-মন্দির।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহীসুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*মোদির বাসভবনের পাশে বুলডোজার, হুমকিতে শতবর্ষী মসজিদ-মন্দির।* 


 *উপশিরোনাম:* প্রায় ৭০০ বসতি উচ্ছেদের পর উদ্বেগ বাড়ছে; মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে মুখোমুখি দুই পক্ষ। সরকারের দাবি, জমিটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন; মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনসংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিপাকে পড়েছে শতবর্ষী একটি মসজিদ ও প্রাচীন একটি মন্দির। নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রেস কোর্স মসজিদ’ ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে। একই সঙ্গে মন্দিরটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক দিল্লি রেস ক্লাব ইতোমধ্যে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকায় বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা অপসারণের ধারাবাহিকতায় গত আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযানে চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রায় ৭০০ ঘরবাড়ি ও বস্তি উচ্ছেদ করা হয়। এর পর থেকে জনবসতিহীন পরিবেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে মসজিদ ও মন্দিরটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর থেকে মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে রাখা হয়েছে প্রবেশপথ; বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন জানান, তিনি প্রায় ৩৬ বছর ধরে মসজিদটির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাবি, মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকাভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ব্যবহার এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হলেও সম্প্রতি তাঁকে অল্প সময়ের মধ্যে জায়গা ছাড়ার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১ দশমিক ২৪ একর জমিতে অবস্থিত মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ৮০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। এটি নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত ১৪১টি সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার একটি। ১৯৭৭ সাল থেকে মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত বলেও সংশ্লিষ্টদের দাবি।

তবে কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহায়ন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পক্ষ থেকে মসজিদের বাইরের অংশে একটি নোটিশ টাঙানো হয়েছে। সেখানে জমিটি সরকারের বলে দাবি করে অনুমতি ছাড়া অবস্থানকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জমির মালিকানা ও স্থাপনাটির আইনি সুরক্ষা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।

মসজিদের পাশের মন্দিরটির পুরোহিত কেশব রাজ শাস্ত্রীর অভিযোগ, ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মসজিদের মতো মন্দিরটিরও বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরের এলাকাটিতে চলমান উচ্ছেদ অভিযানের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার প্রশ্নে স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এ ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর মতে, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ মুসলিমদের ধর্মীয় সম্পত্তির সুরক্ষা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এদিকে উচ্ছেদ হওয়া প্রায় ৭০০ পরিবারের অনেককে মূল বসতি থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দূরে স্থানান্তরের কারণে তাঁদের কর্মসংস্থান, জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ভারতের বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে উচ্ছেদ অভিযানে মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে আগেও সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এসব পদক্ষেপের সমালোচনায় ‘বুলডোজার জাস্টিস’ শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হয়েছে।

নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে রেস কোর্স মসজিদ ও পাশের মন্দিরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্থাপনাগুলোর আইনি মর্যাদা, জমির মালিকানা এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না—সেই প্রশ্নগুলো।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

সর্বশেষ